ব্রিজের জন্য বছরের পর বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সীমান্ত মানুষ

0
26



কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নখরজান সীমান্তে ১০২ টি পরিবারের লোকেরা বছরের পর বছর ধরে নীলকমল নদীর উপরের কাঠের সেতুটি পেরিয়ে চলেছে কারণ সেখানে একটি কংক্রিট ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সীমান্তের জনগণ দুর্ঘটনার ঝুঁকির মধ্যে মূল ভূখণ্ডে পৌঁছতে 50 ফুট দীর্ঘ এবং ছয় ফুট প্রশস্ত নড়বড়ে সেতুটি ব্যবহার করেন, স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ব্রিজ সংলগ্ন সীমানা স্তম্ভ 940 এবং 941 এর মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমানা রেখা রয়েছে।

গ্রামবাসীরা জানান, নীলকমল একটি ছোট নদী হলেও বর্ষায় উচ্চ জোয়ারের সময় এটি প্লাবিত হয়। তবে শুকনো মরসুমে এটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে যায়। নখরজান সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষ, যারা জীবিকার জন্য কৃষির উপর নির্ভরশীল, নদীর উপর একটি কংক্রিট ব্রিজ না থাকায় অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হন।

কৃষক আনিসুর রহমান জানান, ১৯৮7 সাল পর্যন্ত নদীর উপর একটি কাঠের সেতু ছিল। কাঠের ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পরে আর নির্মাণ করা হয়নি। পরে তাদের নদীর উপর বাঁশের তৈরি সেতুটি বহু বছর ধরে পার করতে হয়েছিল।

২০১ 2016 সালে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গ্রামবাসীদের সহায়তায় কাঠের সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল, তবে বারবার আর্জি জানানো সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনও সেখানে একটি কংক্রিট ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে পারেনি বলে জানান আনিসুর।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা আশরাফুল হক (৪৮) জানান, তাদের পাশাপাশি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে বসবাসকারী ভারতীয়রাও সেতুটি ব্যবহার করেন। কমপক্ষে 600 জন লোক সেখানে বাস করেন।

সন্ধ্যায় কাঁটাতারের বেড়ার ফটকটি বন্ধ হয়ে গেলে এই ভারতীয় বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য এই কাঠের সেতুটি বাংলাদেশের বাজারে আসতে ব্যবহার করে বলেন, সেতুটি স্থাপন করা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্প্রীতির উদাহরণ এটি।

‘কাঁটাতারের বেড়ার গেট দিয়ে আমরা সর্বদা ভারতের মূল ভূখণ্ডে যেতে পারি না। বাংলাদেশী সীমান্ত গ্রাম নখরজানের সকল মানুষ আমাদের পরিচিত। আমরা কাঠের সেতুটিও বাংলাদেশের বাজারে এসে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে ব্যবহার করি, ‘ভারতের সীমান্তবর্তী গ্রাম সেউতি পার্ট -২ এর কৃষক আবদুস সামাদ খান বলেন।

ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ বলেছেন, সীমান্তে কোনও অবকাঠামো নির্মাণ নিষিদ্ধ হওয়ায় নীলকমলের উপরে কংক্রিট ব্রিজ তৈরি হচ্ছে না।



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here