খুলনায় করোনা জয়ী দুই রোগিকে ফুলেল শুভেচ্ছা

0
88
corona rogi susto

মহিদুল ইসলাম শাহীন, খুলনা –

খুলনায় করোনা আক্রান্ত দুই রোগী চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। খুলনার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতাল থেকে তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

ছাড়পত্র পাওয়া দুইজন হলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শিলারানি দাস এবং দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা কালিবাড়ি এলাকার বিষ্ণু হাজরা।গতকাল দুপুর একটার দিকে করোনা চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট সিনিয়র ডাক্তাররা ফুল-ফল ও স্বাস্থ্য সেবা গাইডলাইন দিয়ে হাততালিসহযোগে তাদের বিদায় দেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শিলারানি দাস খুলনার করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে নার্সিং সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেখানে করোনা আক্রান্ত খুমেকের তিনজন শিক্ষককে সেবা করার সময় তিনিও আক্রান্ত হন।

দায়িত্ব পালন শেষে সিএসএস আভা সেন্টারে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকার সময় উপসর্গ দেখা দিলে গত ২৮ এপ্রিল শিলা দাসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ফল পজেটিভ আসে।

এর পর থেকে করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।এদিকে নগরীর দৌলতপুর মহেশ্বরপাশা কালিবাড়ি এলাকার রিকশাচালক বিষ্ণু হাজরা বেশ কয়েকদিন ধরে জ্বর, শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফ্লু কর্নারে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন তিনি। উপসর্গ দেখে তার শরীর থেকে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করান দায়িত্বরত চিকিৎসকরা।

পরদিন পজেটিভ রেজাল্ট এলে তাকেও নুরনগরে করোনা হাসপাতালে স্থানন্তর করা হয়। গত ৭ এবং ৮ মে পরপর দুইদিন ওই দুই রোগীর নমুনা পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসায় তাদের করোনামুক্ত সনদ দিয়ে হাসপাতাল থেকে বিদায় দেওয়া হয়।

বিদায়কালে তাদের ফুল, ফল ও চিকিৎসা গাইডলাইনের পাশাপাশি হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়।করোনা হাসপাতাল কমিটির আহ্বায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, করোনা-যুদ্ধে বিজয়ী এই দুইজনকে বিদায়কালে ফুল, ফল উপহার ছাড়াও ও হাততালি দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়।

তাদের কাছে পরপর দুইবার করোনা টেস্টে নেগেটিভ আসার ফলাফল শিট এবং হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রসহ ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এখন থেকে তাদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।করোনামুক্ত হয়ে শিলারানি দাস বলেন, ‘হাসপাতালে করোনা রোগীদের সেবা করতে এসে আক্রান্ত হয়েছিলাম।

কিন্তু চিকিৎসকের গাইডলাইন মেনে চলেছি। ঈশ্বরের কৃপায় সুস্থ হয়েছি। আশাকরি খুব শিগগিরই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আবারও করোনা যুদ্ধে শামিল হতে পারবো।’বিশেষ প্রয়োজন না হলে সবাইকে বাসায় থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

এসময় করোনা চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সার্বিক সমন্বয়কারী ডা. মেহেদী নেওয়াজ, সদস্য সচিব ডা. খসরুল আলম মল্লিক, খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মুন্সি রেজা সেকেন্দার, মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. ফরিদ আহমেদ, শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. জুলকার নাইম, খুমেক হাসপাতালের আরএমও ডা. মিজানুর রহমান, ফ্লু কর্নারের মুখপাত্র ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে খুলনায় ক‌রোনা আক্রান্ত একজন সুস্থ হ‌য়ে‌ছি‌লেন। যে‌হেতু তি‌নি বা‌ড়ি‌তে আইসো ‌লেশ‌নে থে‌কে চি‌কিৎসা নি‌য়ে সুস্থ হ‌য়ে‌ছেন, তাই তা‌কে আর আনুষ্ঠা‌নিকভা‌বে বিদায় জা‌না‌নো হয়‌নি। আজই প্রথম দুইজন‌কে আনুষ্ঠা‌নিক বিদায় দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here